অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : Oct 11, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

ইটনায় ইউএনওর আকস্মিক পরিদর্শন, হাজিরা খাতায় ৬ শিক্ষকের সই, উপস্থিত ৩

কিশোরগঞ্জের ইটনায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে হাজিরা খাতায় প্রধান শিক্ষকসহ ছয়জনের স্বাক্ষর পেলেও উপস্থিত পেয়েছেন মাত্র তিনজনকে। এ ঘটনায় অনুপস্থিত শিক্ষকদের সাত দিনের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার সহিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর থাকা ছয় শিক্ষকের মধ্যে তিনজনকে অনুপস্থিত পেয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাখন চন্দ্র সূত্রধর। বিনা অনুমতিতে ছুটি না নিয়ে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি পরিদর্শন বহিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নের সহিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে এ চিত্র দেখতে পান ইউএনও।

পরিদর্শন বহিতে উল্লেখ করা হয়, বিদ্যালয়ের হাজিরা রেজিস্টারে প্রধান শিক্ষকসহ ছয়জন শিক্ষকের স্বাক্ষর ছিল। তবে সরেজমিনে পরিদর্শনের সময় তাঁদের মধ্যে মাত্র তিনজনকে বিদ্যালয়ে পাওয়া যায়। অনুপস্থিত শিক্ষকেরা ছুটির আবেদন না করে এবং কর্তৃপক্ষকে আগাম না জানিয়ে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন বলে পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়েছে।

অনুপস্থিত শিক্ষকদের তালিকায় প্রধান শিক্ষক মো. ফজলুল হক এবং সহকারী শিক্ষক আনোয়ারা পারভীন ও সজলের নাম রয়েছে। হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর থাকা সত্ত্বেও অনুপস্থিত থাকার কারণ এবং বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে আগে থেকে না জানানোর ব্যাখ্যা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লিখিতভাবে দিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মো. ফজলুল হকের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বর্তমানে তিনি কিশোরগঞ্জে অবস্থান করছেন। সকালে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে পরে চলে এসেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। তবে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর থাকার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি তা এড়িয়ে যান।

অন্য অনুপস্থিত সহকারী শিক্ষকদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এ ছাড়া সহকারী শিক্ষক সুপ্রভাত পারিবারিক মামলার আসামি হিসেবে অনুপস্থিত রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম মো. এহছানুল হক বলেন, শিক্ষকদের অনুপস্থিত থেকেও হাজিরা খাতায় উপস্থিতি দেখানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইটনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাখন চন্দ্র সূত্রধর গণমাধ্যমকে বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং মানসম্মত পাঠদান বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিদর্শনে পাওয়া চিত্র বিদ্যালয়ের তদারকি ও শিক্ষকদের দায়িত্ব পালনে অবহেলার বিষয়টি সামনে এনেছে। সংশ্লিষ্টদের সাত দিনের মধ্যে লিখিতভাবে জবাব দিতে বলা হয়েছে।


মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ট্রাম্পের নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

1

সব মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতিবিরোধী কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত

2

রিকশাচালককে গুলি করে হত্যা মামলায় কারাগারে চিকিৎসকসহ পাঁচজন

3

বগুড়ায় ফ্রি চক্ষু ক্যাম্প, সেবা পেলেন হাজারো মানুষ

4

পীরগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে এমপিও জালিয়াতির অভিযোগ, ভারপ্রা

5

জাতিসংঘে ভাষণ দিয়ে বিরল ইতিহাস গড়লেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহম

6

ইস্তাম্বুলে যাত্রাবিরতি শেষে নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী

7

নারী ও শিশুর সুরক্ষায় অঙ্গীকার নয়, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ জরুর

8

ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানীর খোঁজে ২০২৬’ বিজ্ঞান মেলায় নিবন্ধন শুরু

9

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মূল স্তম্ভ গণমাধ্যম: রাষ্ট্রপতি

10

জিয়ার জাতিসংঘ ভাষণে স্বনির্ভরতা ও দক্ষিণ এশীয় সহযোগিতার আহ্ব

11

আ.লীগ নেতার অফিসে অস্ত্র, ককটেল ও বিদেশি মদ উদ্ধার

12

ইইউ ট্যালেন্ট পার্টনারশিপে প্রশিক্ষণ শেষে ইউরোপে যেতে প্রস্ত

13

বর্তমান সরকারের প্রধান দায়িত্ব শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে বিচার

14

রাণীশংকৈলে জামিনের পর ফের ইয়াবাসহ বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা গ্রেপ

15

সাজু স্যারকে ঘিরে বিতর্ক: অভিযোগভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের ব্যাখ

16

খায়রুল কবির খোকন বললেন, ‘তারেক রহমানই সরকার পতন আন্দোলনের মা

17

‘সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নিজেদের সংখ্যালঘু ভাববেন না’

18

বালোগুন ইস্যুতে ফিফার বিরুদ্ধে নরওয়ে, তদন্তের মুখে ইনফান্তিন

19

নতুন প্রজন্মকে জিয়ার আদর্শ জানাতে বললেন মঈন খান

20