অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : Oct 9, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

রাজনীতির পালাবদল হলেও বদলায় না কিশোর গ্যাংয়ের ‘বড় ভাই’ সংস্কৃতি

রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদলে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের পৃষ্ঠপোষকদের পরিচয়ে পরিবর্তন এলেও অপরাধে তাদের ব্যবহারের প্রবণতা বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার ৫০টি থানা এলাকায় বর্তমানে ১৫৮টি কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে। এসব গ্যাংয়ের পেছনে শতাধিক পৃষ্ঠপোষকের নাম উঠে এসেছে।


রাজনৈতিক পরিচয় ও স্থানীয় প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাং পরিচালনার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের সঙ্গে কোথাও পৃষ্ঠপোষকদের পরিচয় বদলেছে, আবার কোথাও পুরোনো প্রভাবশালীরা আড়ালে থেকে গ্যাংয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

পুলিশ সূত্রের তথ্যমতে, রাজধানীর ৫০টি থানা এলাকায় বর্তমানে ১৫৮টি কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে। এসব গ্যাংয়ের পেছনে শতাধিক পৃষ্ঠপোষকের নাম পাওয়া গেছে। তাঁদের মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মী, সাবেক জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি, আবাসন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি এবং শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নাম রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি।

অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা স্থানীয় প্রভাব ব্যবহার করে এসব ব্যক্তি কিশোরদের নিজেদের বলয়ে যুক্ত করেন। পরে আধিপত্য বিস্তার, জমি বা স্থাপনা দখল, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মাদক কারবার ও সংঘাতের মতো অপরাধে তাদের ব্যবহার করা হয়। গ্যাংয়ের কোনো সদস্য গ্রেপ্তার হলে জামিন ও আইনি সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রেও পৃষ্ঠপোষকদের ভূমিকা থাকার অভিযোগ রয়েছে।

পাল্টেছে পরিচয়, বহাল প্রভাবের বলয়

সংশ্লিষ্টদের মতে, রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের পর অনেক এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের পৃষ্ঠপোষকদের পরিচয় বদলালেও গ্যাং ব্যবহারের প্রবণতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। কোথাও পুরোনো প্রভাবশালীরা আড়ালে থেকে কার্যক্রম পরিচালনায় ভূমিকা রাখছেন, আবার কোথাও নতুন প্রভাবশালীরা কিশোরদের নিজেদের বলয়ে টেনে নিচ্ছেন।

পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সূত্র জানিয়েছে, রাজধানীর মিরপুর, পল্লবী, মোহাম্মদপুর, তেজগাঁও, উত্তরা, উত্তরখান, দক্ষিণখান, যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, গেন্ডারিয়া, রামপুরা, হাজারীবাগ ও লালবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক কিশোর গ্যাংয়ের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয়ের ব্যক্তিদের নাম উঠে এসেছে।

সূত্রগুলোর দেওয়া তথ্যে মিরপুরের পিয়াস গ্রুপের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে ১১ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ মোহাম্মদ কিবরিয়া ওরফে পিয়াস ও মো. আমিরুল ইসলামের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। কাফরুলের ভাই ব্রাদার গ্রুপের হোতা হিসেবে মানিক হাসান রকি, পটেটো রুবেল গ্রুপের পেছনে আওয়ামী লীগের দারুস সালাম থানার সাংগঠনিক সম্পাদক সাজেদুর রহমান রাসেল এবং অতুল গ্রুপের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে আওয়ামী লীগের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সহসভাপতি সাইদুর রহমান বাপ্পী ও সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাহেরের ভাই মো. রায়হানের নাম এসেছে।

এ ছাড়া হাকিম গ্রুপের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উজ্জ্বল, পল্লবীর আশিক গ্রুপের হোতা হিসেবে বিদেশে পলাতক মফিজুর রহমান মামুন এবং রাজু গ্রুপের হোতা হিসেবে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পল্লবী থানার সাংগঠনিক সম্পাদক মিলন ঢালির নাম উল্লেখ করেছে সূত্র। রকি গ্রুপের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে ৯১ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের কর্মী ফারুক হোসেন এবং পিন্টু-কাল্লু গ্রুপের হোতা হিসেবে মহানগর উত্তর যুবলীগের সদস্য সুলতানের নাম এসেছে।

রোমান্টিক গ্রুপের হোতা হিসেবে বিহারি ক্যাম্পের জালাল উদ্দিন বন্টু এবং ভাই ভাই গ্রুপের হোতা হিসেবে আওয়ামী লীগের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সেক্রেটারি খলিলুর রহমানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। মুরাদ গ্রুপের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে কাজী জহিরুল ইসলাম, আরমার গ্রুপের সঙ্গে যুবলীগ কর্মী সাইফুল এবং সোহেল গ্রুপের হোতা হিসেবে ছাত্রলীগের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নাইমের নামও এসেছে।

শাহ আলী এলাকার মামুন গ্রুপের হোতা হিসেবে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা তোফাজ্জল হোসেন সেন্টু, রুবেল গ্রুপের হোতা হিসেবে যুবলীগের সোহেল রানা এবং রূপনগর আবাসিক এলাকার লিমনের নাম উল্লেখ করেছে সূত্র। কাইল্লা সাগর গ্রুপের হোতা হিসেবে পল্লবী থানা যুবদলের ৬ নম্বর ইউনিটের সভাপতি কাউসার মোল্লার নাম এসেছে।

মোহাম্মদপুরের পাটালী গ্রুপের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জহিরুল ইসলাম অপু এবং ৩৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওসমান রেজার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ঠেলা গ্রুপ ও লেভেল হাই গ্রুপের হোতা হিসেবে বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী কিলার বাদলের নাম এসেছে।

এ ছাড়া আনোয়ার গ্রুপের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে এক্সেল বাবু, টক্কর গ্রুপ ও ফরহাদ গ্রুপের হোতা হিসেবে বিএনপি নেতা মান্নান শাহীন এবং আর্মি আলমগীর ও নবী গ্রুপের হোতা হিসেবে শীর্ষ সন্ত্রাসী মো. নবীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ডাইল্লা গ্রুপের মো. শাকিল, এলেক্স গ্রুপের পাপ্পু এবং আকবর গ্রুপের সঙ্গে মোহাম্মদপুর থানা শ্রমিক দলের সভাপতি আলী কাওছার মিন্টুর নামও এসেছে।

গাংচিল গ্রুপের হোতা হিসেবে লম্বু মোশারফ, আশরাফ গ্রুপের সঙ্গে গ্যারেজ সোহেল এবং স্টার বন্ড গ্রুপের হোতা হিসেবে মো. খোকনের নাম উল্লেখ করেছে সূত্র। ভাইব্বা ল কিং গ্রুপের হোতা মো. কবির, চেতাইলেই ভেজাল গ্রুপের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে মোহাম্মদপুর শাখা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক লিটন মাহমুদ বাবু এবং ঘুটা দে গ্রুপের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে নবোদয় হাউজিংয়ের মো. কবিরের নাম এসেছে।

শেরেবাংলানগরের জাকির গ্রুপের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি মো. আসাদুজ্জামান এবং হাতিরঝিলের বাঁধন ও পলক গ্রুপের হোতা হিসেবে আওয়ামী লীগের ২২ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি গোলাম রসূলের ছেলে শেখ ওমর ওরফে পলকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের সিয়াম-সিরাজ গ্রুপের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে বাদল ও ২৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আল-আমিনের নাম এসেছে। রতন গ্রুপের সঙ্গে মোহাম্মদ মানিক মিয়া ও মোহাম্মদ মোশারফের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

তুরাগের পাভেজ গ্রুপের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে যুবলীগ কর্মী ইমরান হোসেন এবং উত্তরখানের নাইন এমএম বিগ বস গ্রুপের সঙ্গে মহিনের নাম এসেছে। শাকিল গ্রুপের আসলাম জনি ও রুস্তম গ্রুপের হোতা হিসেবে আওয়ামী লীগের উত্তরখান থানার সাধারণ সম্পাদক মো. জয়নাল আবেদীনের নাম উল্লেখ করেছে সূত্র।

দক্ষিণখানের বিগবস গ্রুপের হোতা হিসেবে আক্তারুজ্জামান ওরফে ছোটন এবং ইয়ং স্টার গ্রুপের সঙ্গে হাসিবুল হাসান শান্তর নাম এসেছে। ব্লাড বয়েজ গ্রুপের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে ছাত্রলীগের উত্তরা পূর্ব থানা সভাপতি নুরুল আফসার এবং শাওন গ্রুপের সঙ্গে মো. শাওন ওরফে রাশেদুল ইসলামের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

নাইন স্টার গ্রুপের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে ছাত্রলীগের উত্তরা পশ্চিম থানার সাধারণ সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক জুয়েল এবং ভাটারার রবিন গ্রুপের হোতা হিসেবে সাবেক কাউন্সিলর মো. শফিকুল ইসলাম বাছেদের নাম এসেছে। বনানীর বাউন্ডারি বস্তি কিশোর গ্যাং ও পোড়া বস্তি গ্যাংয়ের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে ছাত্রলীগের ২০ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সভাপতি তুহিনের নাম উল্লেখ করেছে সূত্র।

কদমতলীর শুক্কুর গ্রুপের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা নীরব ও আওয়ামী লীগের আজিজ মিয়ার নাম এসেছে। লিটন গ্রুপের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে শ্রমিক লীগের সাইফুল ইসলাম বাবু এবং যাত্রাবাড়ীর ফাহিম গ্রুপের সঙ্গে মো. মুশফিকুর রহমানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

ডেমরার তুহিন গ্যাংয়ের সঙ্গে বাঁশেরপুলের ইসমাইল ভূইয়া তুহিন এবং শিমু বাহিনীর হোতা হিসেবে মাতুয়াইল ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি জিকু বক্সের নাম এসেছে। গেন্ডারিয়ার তাহমিদ গ্রুপের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে আওয়ামী লীগের ৪৫ নম্বর ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম এবং খিলগাঁওয়ের মাফিয়া আলিফ গ্রুপের সঙ্গে মো. জিয়া ও এম জামানের নাম উল্লেখ করেছে সূত্র।

রামপুরার আকিল গ্রুপের হোতা হিসেবে যুবলীগের মনির চৌধুরী এবং শাহজাহানপুরের আরিফ গ্রুপের সঙ্গে মিতু ও জাহিদের নাম এসেছে। হাজারীবাগের পারভেজ ও সাব্বির গ্রুপের হোতা হিসেবে মো. মিঠু এবং আসিফ গ্রুপের সঙ্গে মো. মহিদুল খানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া পারফেক্ট গ্যাং স্টার গ্রুপের সঙ্গে ফুরাদ হোসেন এবং জীবন গ্রুপের হোতা হিসেবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার হোসেনের নাম এসেছে। লালবাগের রবিন গ্রুপের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে ছাত্রলীগের থানা সভাপতি মো. সুমন এবং চকবাজারের পাত্তি গ্রুপের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে ২৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. বিপ্লবের নাম উল্লেখ করেছে সূত্র।

কিশোরেরা গ্রেপ্তার হলেও আড়ালে পৃষ্ঠপোষকেরা

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা গ্রেপ্তার হলেও তাদের পেছনে থাকা পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় অনেক কিশোরকে মুচলেকার মাধ্যমে পরিবারের জিম্মায় দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। তবে পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে একই কিশোর কিংবা নতুন সদস্যদের নিয়ে গ্যাং আবার সক্রিয় হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, বিভিন্ন গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িত ১০ থেকে ১৫ বছর বয়সী কিশোরদের আটক করার পর মুচলেকার মাধ্যমে পরিবারের জিম্মায় দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। একই সঙ্গে একই অপরাধে দ্বিতীয়বার ছাড় না দেওয়ার বিষয়ে অভিভাবকদের সতর্ক করতে বলা হয়েছে।

রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারে কিশোরদের ব্যবহারের অভিযোগ

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, কিশোর গ্যাংয়ের কার্যক্রম শুধু অপরাধ সংঘটনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার, দখলবাজি এবং রাজনৈতিক প্রভাব প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও কিশোরদের ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

কিশোরদের সামনে রেখে মূল পরিকল্পনাকারীরা আড়ালে থাকার সুযোগ পান বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত। ফলে কোনো ঘটনায় কিশোর সদস্য গ্রেপ্তার হলেও নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে গ্যাংয়ের কাঠামো ভেঙে দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

তালিকা ধরে অভিযানের নির্দেশ

সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় কিশোর গ্যাংয়ের সম্পৃক্ততার পর পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোকে হালনাগাদ তালিকা তৈরি করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে।

মিরপুরে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, কনটেন্ট নির্মাতা সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা এবং মোহাম্মদপুরে দখলবাজিকে কেন্দ্র করে সংঘাতের পর কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে নতুন করে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয় বলে সূত্রের দাবি।

পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) মো. সায়েদুর রহমান জানিয়েছেন, সারা দেশে কিশোর গ্যাং ও তাদের পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ঢাকা ছাড়াও অন্যান্য মহানগর ও জেলায় সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিচয়ধারী পৃষ্ঠপোষকদের তালিকা ধরে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, অপরাধের ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তি কিশোর নাকি প্রাপ্তবয়স্ক, তা বিবেচনা করে কাউকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। অপরাধে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বাংলানিউজকে বলেন, কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার প্রভাব সমাজেও পড়ছে। দেশের কিশোরদের একটি অংশ ক্রমেই অপরাধ ও সহিংস কর্মকাণ্ডে যুক্ত হচ্ছে। মাদক সেবন ও কারবার, চুরি, ছিনতাই থেকে শুরু করে হত্যার মতো গুরুতর অপরাধেও তাদের সম্পৃক্ততা দেখা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, পারিবারিক দিকনির্দেশনা, নজরদারি ও সহায়তার অভাবে অনেক কিশোর অপরাধের চক্র থেকে বেরিয়ে আসতে পারছে না। তাদের অসহায়ত্ব ও সামাজিক অনগ্রসরতাকে কাজে লাগিয়ে একশ্রেণির স্বার্থান্বেষী ও অপরাধী ব্যক্তি কিশোরদের সংগঠিত করে গ্যাং গড়ে তুলছে এবং বিভিন্ন অপরাধে ব্যবহার করছে।

ড. তৌহিদুল হক আরও বলেন, শুধু কিশোরদের গ্রেপ্তার কিংবা আইনের আওতায় আনার মধ্যেই সমাধান সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। যারা কিশোরদের ব্যবহার করে গ্যাং গড়ে তুলছে এবং অপরাধে পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে, তাদেরও চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

একই সঙ্গে অপরাধে জড়িয়ে পড়া কিশোরদের বয়স ও পরিস্থিতি বিবেচনায় কাউন্সেলিং, শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ, পরিবারভিত্তিক তদারকি এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক ও মানবিক উদ্যোগ সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে কিশোরদের অপরাধের পথ থেকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।


মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রাণীশংকৈলে দুর্গাপূজার প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা

1

হরিপুরে প্রেমের ফাঁদে প্রতারণা, যুবক গ্রেফতার

2

শরীয়তপুর সাংবাদিক সমিতির সভাপতি পলাশ, সম্পাদক মামুন

3

স্বামীর পার্টনার হোন, প্রতিপক্ষ নয়

4

চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমবাগানে ৯২ ককটেলসহ বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম

5

পীরগঞ্জে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

6

তেঁতুলিয়ায় জনসেবায় আলোচনায় চেয়ারম্যান প্রার্থী দুলাল হোসেন (

7

বাংলাবান্ধা থেকে ইনকিলাব মঞ্চের ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ শুরু

8

মেয়াদ শেষ, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত

9

১.৬৪% কমেছে পোশাক রপ্তানি আয়

10

আন্ডারগ্রাউন্ডে থেকে এখন আস্ফালন হাস্যকর: ছাত্রদল সম্পাদক

11

দলের নাম ভাঙিয়ে মানুষকে কষ্ট দিলে ছাড় নয়: তারেক রহমান

12

ফুলবাড়ীতে এনসিপি নেতার সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদে ভুক্তভোগী প

13

নতুন করে ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি শুনছি: ডা. শফিকুর রহমান

14

৫৩ বছর দেশ শাসনকারীরা নতুন আশা দেখাতে পারবে না: চরমোনাই পীর

15

কনফিডেন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচারের আইপিওতে ইস্যু ম্যানেজার ইউসিবি

16

রাজধানীর লেক দূষণ রোধে সমন্বিত উদ্যোগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্র

17

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের সৌজন্য স

18

দেড় থেকে দুই কোটি মানুষকে টিসিবির পণ্য দেওয়া সম্ভব: বাণিজ্য

19

দুয়ের অভিষেক, সাইবারির বদলে মরক্কোর একাদশে এল খানুস

20