দুর্গাপূজা সামনে রেখে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বাঁশ, খড় ও মাটি দিয়ে প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে। পূজার সময় ঘনিয়ে আসায় বেড়েছে তাদের কর্মব্যস্ততা।
দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে রাণীশংকৈলের বিভিন্ন স্থানে প্রতিমা তৈরির কারিগরদের ব্যস্ততা এখন তুঙ্গে। কেউ বাঁশ ও কাঠ দিয়ে প্রতিমার কাঠামো তৈরি করছেন, কেউ খড় দিয়ে অবয়ব গড়ে তুলছেন, আবার কেউ মাটির প্রলেপ দিয়ে প্রতিমার আকৃতি নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলছেন। প্রাথমিক কাজ শেষ করে অনেকে এখন মুখাবয়ব, সূক্ষ্ম কারুকাজ ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজে মনোযোগ দিচ্ছেন।
প্রতিমাশিল্পী সুফল দেব বলেন, একটি প্রতিমা তৈরি করতে সাধারণত ১ থেকে দেড় মাস সময় লাগে। পূজার দিন ঘনিয়ে আসায় কাজের চাপ বেড়েছে। সময়মতো প্রতিমা সরবরাহ করতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করতে হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া যায়। তবে বৃষ্টি হলে মাটি শুকানো ও রং করার কাজে কিছুটা বিলম্ব হয়।
কারিগররা জানান, প্রতিমা তৈরির শুরুতে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে কাঠামো প্রস্তুত করা হয়। এরপর খড় দিয়ে কাঠামোর ওপর অবয়ব তৈরি করে মাটির প্রলেপ দেওয়া হয়। মাটি শুকিয়ে গেলে মুখাবয়ব, সূক্ষ্ম কারুকাজ ও অলংকারের নকশা ফুটিয়ে তোলা হয়। সবশেষে রং, পোশাক, অলংকার ও অন্যান্য সাজসজ্জার মাধ্যমে প্রতিমাকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়া হয়।
প্রতিমা তৈরিতে নদী বা পুকুরের পলিমাটি, খড়, বাঁশ, কাঠ, কাপড় ও প্রাকৃতিক রংসহ বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে।
আরেক কারিগর নারায়ণ চন্দ্র বলেন, প্রতিমা তৈরির কাজ শুধু জীবিকার বিষয় নয়, এটি তাদের ঐতিহ্য ও শিল্পেরও অংশ। প্রতিটি প্রতিমার মুখাবয়ব ও নকশায় আলাদা যত্ন নিতে হয়। পূজামণ্ডপে প্রতিমা স্থাপনের পর দর্শনার্থীদের প্রশংসাই তাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
পূজা ঘনিয়ে আসায় রাণীশংকৈলের বিভিন্ন পূজামণ্ডপের কমিটির সদস্যরা প্রতিমার কাজ দ্রুত শেষ করতে কারিগরদের তাগাদা দিচ্ছেন। কাতিহার পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনিব রায় বলেন, মণ্ডপের সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা ও অন্যান্য প্রস্তুতির পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিমা স্থাপনের কাজও শেষ করতে হবে। এ কারণে কারিগরদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
কারিগররা জানান, প্রতিমার আকার, নকশা ও সাজসজ্জার ওপর ভিত্তি করে তৈরির খরচ নির্ধারিত হয়। ছোট প্রতিমা তৈরিতে তুলনামূলক কম সময় ও শ্রম প্রয়োজন হলেও বড় প্রতিমার জন্য বেশি কারিগর, উপকরণ ও সময় লাগে। সাম্প্রতিক সময়ে বাঁশ, খড়, মাটি, রং ও অলংকার তৈরির উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রতিমা তৈরির খরচও বেড়েছে।
কারিগরদের নিপুণ হাতে মাটির প্রতিমাগুলো ধীরে ধীরে পূর্ণাঙ্গ রূপ পাচ্ছে। তাদের তৈরি প্রতিমা দেখতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রতিদিন কারখানা ও মণ্ডপে ভিড় করছেন। পূজার উৎসবকে আরও বর্ণিল করে তুলতে কারিগরদের এই শ্রম ও শিল্পকর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
কারিগররা আশা করছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব প্রতিমার কাজ শেষ করতে পারবেন। তাদের নিপুণ কারুকাজে এবারও দুর্গাপূজার উৎসবের আমেজে নতুন মাত্রা যোগ হবে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমানুল্লাহ আমান জানান, রাণীশংকৈলে ৫৫টি পূজামণ্ডপ রয়েছে। পুলিশ প্রতিটি পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখেছে এবং কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা নেই। এ ছাড়া প্রতিটি পূজামণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন