রাজধানীর বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। পাশাপাশি মাছ ও মুরগি বিক্রি হচ্ছে আগের সপ্তাহের মতোই চড়া দামে। নিত্যপণ্যের এমন ঊর্ধ্বগতিতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।
রাজধানীর বাজারগুলোতে সবজি, মাছ ও মুরগির দাম বাড়তি থাকায় স্বস্তি পাচ্ছেন না ক্রেতারা। সরবরাহ ভালো থাকলেও এক সপ্তাহের ব্যবধানে গ্রীষ্মকালীন ও শীতকালীন বিভিন্ন সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। অন্যদিকে মাছ ও মুরগির বাজারেও দামের তেমন পরিবর্তন নেই।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর শেওড়াপাড়া ও আগারগাঁও বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, পটল, ঢ্যাঁড়শ ও চিচিঙ্গা প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেগুনের দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ৮০ থেকে ১২০ টাকা হয়েছে। কাঁচা মরিচের দামও কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকায়। টমেটো প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, জলপাই ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং গাজর ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া পেঁপে প্রতি কেজি ১৫ থেকে ২০ টাকা, আলু ৩০ টাকা এবং পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে বাজারে দেখা গেছে।
শীতকালীন সবজির দামও বেড়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে এসব সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়। নতুন আলু কেজিপ্রতি ২০০ টাকা, মুলা ৬০ টাকা, ফুলকপি ৫০ থেকে ৮০ টাকা এবং ছোট আকারের বাঁধাকপি প্রতি পিস ৪০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে কচুর লতি প্রতি কেজি ৮০ টাকা, কচুরমুখি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, শসা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, বরবটি ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং মিষ্টিকুমড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
প্রতি হালি লেবুর দাম ৩০ থেকে ৪০ টাকা। দেশি ধনেপাতা প্রতি কেজি ৩০০ টাকা এবং হাইব্রিড ধনেপাতা ২৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচকলা প্রতি হালি ৪০ টাকা, চালকুমড়া প্রতি পিস ৬০ থেকে ৭০ টাকা এবং ক্যাপসিকাম প্রতি কেজি ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মুরগির বাজারেও ক্রেতাদের স্বস্তি নেই। বাজারে সোনালি কক মুরগি প্রতি কেজি ৩২০ টাকা, সোনালি হাইব্রিড মুরগি ২৯০ টাকা, লাল লেয়ার ৩৬০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৮০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
তবে শাকের দাম তুলনামূলক কিছুটা কম। বাজারে প্রতি আঁটি লালশাক ১৫ টাকা, লাউশাক ৫০ টাকা, দুই আঁটি কলমিশাক ২০ টাকা, পুঁইশাক ৪০ টাকা এবং দুই আঁটি ডাঁটাশাক ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারে চড়া দাম অব্যাহত রয়েছে। আকারভেদে প্রতি কেজি চাষের শিং মাছ ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকা এবং দেশি শিং মাছ ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রুই মাছের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকায়। দেশি মাগুর মাছ ৯০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া চাষের পাঙ্গাস প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ২২০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা, বোয়াল ৬৫০ থেকে ৮০০ টাকা এবং বড় কাতল ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পোয়া মাছের দাম প্রতি কেজি ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, পাবদা ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০ থেকে ২৪০ টাকা এবং কৈ মাছ ২২০ টাকা।
অন্যান্য মাছের মধ্যে মলা প্রতি কেজি ৫০০ টাকা, বাতাসি টেংরা ১ হাজার ৪০০ টাকা, টেংরা ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাচকি ৫০০ টাকা এবং পাঁচমিশালি মাছ ২৪০ থেকে ২৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে মাংসের বাজারে দাম কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ডিমের বাজারেও দামের পার্থক্য রয়েছে। প্রতি ডজন লাল ডিম ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা এবং হাঁসের ডিম ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি মুরগির ডিম প্রতি হালি ১০০ টাকা এবং সোনালি কক মুরগির ডিম ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে আসা ক্রেতারা জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়মিত বাড়তে থাকায় সংসারের খরচ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে। সবজি থেকে শুরু করে মাছ-মুরগি—প্রায় সব পণ্যের বাড়তি দামে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় চাপ বাড়ছে।
মন্তব্য করুন