সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত কর্মসংস্থান উপযোগী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ জন্য উচ্চশিক্ষায় আধুনিক কারিগরি, প্রকৌশল ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত দেশের কর্মসংস্থান উপযোগী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে সমন্বিত ও সামগ্রিক পদ্ধতিতে সাজাতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা কর্মদক্ষতা অর্জন করতে পারেন এবং বেকারত্ব কমানো সম্ভব হয়।
শনিবার বঙ্গভবনে সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান রেজাউল করিমের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইউসুফ মাহবুবুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম বাসসকে এ তথ্য জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান, কলকারখানা, করপোরেট সংস্থা, বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি সংস্থায় কাজের জন্য বিদেশ থেকে কর্মী আনতে হচ্ছে। অথচ দেশে অনেক উচ্চশিক্ষিত বেকার রয়েছেন।
এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কারিগরি, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিষয়ে আধুনিক এবং উচ্চমানসম্পন্ন শিক্ষা দেওয়ার ওপর জোর দেন রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে শিল্প ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উপযুক্ত ও কর্মক্ষম জনশক্তি গড়ে তোলার পরামর্শ দেন তিনি।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতি গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাব্যয় মওকুফ করার আহ্বান জানান।
এ সময় সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম রাষ্ট্রপতিকে প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক একাডেমিক কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়টি অনেকটা দাতব্য ও অলাভজনক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালনার চেষ্টা করছে।
তিনি আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিবছর গড়ে প্রায় ৩২ কোটি টাকা মেধাবী, অসচ্ছল ও বিশেষ কোটার শিক্ষার্থীদের টিউশন ফিতে বিভিন্ন হারে ছাড় এবং বৃত্তি হিসেবে প্রদান করে।
সাক্ষাৎকালে বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান আসন্ন সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য রাষ্ট্রপতিকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণ গ্রহণ করে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আশ্বাস দেন।
এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব ও প্রেস সচিব ছাড়াও সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য সচিব, সদস্য, উপ-উপাচার্য, রেজিস্ট্রার ও উপদেষ্টা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন