অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : Jul 2, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

১.৬৪% কমেছে পোশাক রপ্তানি আয়

২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত থেকে রপ্তানি আয় হয়েছে ৩৮.৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ খাত থেকে আয় ছিল ৩৯.৩৫ বিলিয়ন ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে তৈরি পোশাক রপ্তানি আয় কমেছে ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ওভেন পোশাক রপ্তানি ১৮.১৯ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে ১৮.০৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এ ক্ষেত্রে আগের বছরের তুলনায় রপ্তানি কমেছে ০.৬১ শতাংশ।

অন্যদিকে নিট পোশাক রপ্তানি ২১.১৬ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে ২০.৬২ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। ফলে এ খাতে রপ্তানি হ্রাস পেয়েছে ২ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

মাসভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, অর্থবছরের শুরুতে জুলাই মাসে রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়। ওই মাসে মোট রপ্তানি ২৪.৬৭ শতাংশ বেড়ে ৩.৯৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়।

এ ছাড়া এপ্রিল মাসে ৩১.২১ শতাংশ এবং জুনে ২১.৫২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়।

তবে আগস্ট থেকে মার্চ পর্যন্ত অধিকাংশ মাসেই রপ্তানিতে নেতিবাচক ধারা দেখা যায়। মার্চ মাসে সর্বোচ্চ ১৯.৩৫ শতাংশ, ডিসেম্বরে ১৪.২৩ শতাংশ এবং ফেব্রুয়ারিতে ১৩.২১ শতাংশ রপ্তানি কমে।

বছরের কয়েকটি মাসে ভালো প্রবৃদ্ধি থাকলেও অধিকাংশ সময় রপ্তানি নিম্নমুখী থাকায় সার্বিকভাবে অর্থবছর শেষে তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি আয় ১.৬৪ শতাংশ কমেছে।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সাবেক সভাপতি ফজলুল হক মনে করেন, আন্তর্জাতিক বাজারের মন্দার পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ নানা সীমাবদ্ধতার কারণেই বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক বাজারে চাহিদা কিছুটা কমে যাওয়ায় অন্যান্য দেশের রপ্তানিও কমেছে। তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে পতনের হার তুলনামূলক বেশি। এর পেছনে বৈশ্বিক পরিস্থিতির পাশাপাশি দেশের নিজস্ব দুর্বলতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

ফজলুল হকের মতে, বাংলাদেশ সময়োপযোগী ও কার্যকর বিপণন কৌশল গ্রহণে পিছিয়ে ছিল। বিপরীতে চীন মূল্য সমন্বয়, উন্নত সেবা এবং দ্রুত পণ্য সরবরাহের মাধ্যমে বিদ্যমান ক্রেতাদের ধরে রাখার পাশাপাশি নতুন বাজারেও অবস্থান শক্ত করেছে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে মূল্য সমন্বয়, দ্রুত ডেলিভারি এবং উন্নত সেবার মতো কৌশল গ্রহণ অপরিহার্য। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপের পর চীন ইউরোপের বাজারে আরও বেশি মনোযোগ দিয়ে মূল্য কমিয়ে বাজার সম্প্রসারণে সফল হয়েছে। বাংলাদেশ সে ধরনের প্রতিযোগিতামূলক উদ্যোগ নিতে পারেনি।

বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগ্রাসী বিপণন কৌশলের পাশাপাশি পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তার মতে, বাংলাদেশ এখনো সীমিতসংখ্যক পোশাকপণ্যের ওপর নির্ভরশীল। তাই নতুন ধরনের পণ্য উৎপাদনের সক্ষমতা বৃদ্ধি জরুরি।

বিশেষ করে ম্যান-মেড ফাইবারভিত্তিক পোশাক উৎপাদনে দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, শুধু নতুন খাতে প্রবেশ করলেই হবে না, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করার মতো উৎপাদন সক্ষমতাও গড়ে তুলতে হবে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, এসব উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। কারণ একবার কোনো বাজার হারিয়ে গেলে তা পুনরুদ্ধার করা সহজ নয়; বরং আগের অবস্থানে ফিরতে দীর্ঘ সময় লাগে এবং অনেক ক্ষেত্রেই তা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

‘আওয়ামী লীগের সঙ্গে গণতন্ত্রের কোনো মিল নেই’ — মির্জা ফখরুল

1

প্রবীর মিত্রের শেষ দিনগুলো যেমন ছিল

2

চরমপন্থা প্রতিরোধে ইসলামের প্রকৃত শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ

3

ঢাকা ওয়াসা ভবনে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভা

4

সংসদে সময় বণ্টনে বৈষম্যের অভিযোগ, ওয়াকআউটের ব্যাখ্যা জামায

5

অসুস্থ গরু জবাই ঠেকাতে কঠোর সিদ্ধান্ত, ফুলবাড়ীতে আইনশৃঙ্খলা

6

৪৩তম বিসিএসের ২২৭ জনের প্রজ্ঞাপন হয়নি এখনো, রোববারের মধ্যে প

7

ব্যস্ত দিনের শেষেও শিক্ষার্থীদের পাশে প্রধানমন্ত্রী

8

তেঁতুলিয়ায় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন সফল করতে পরিকল্পনা স

9

২০২৮-২৯ অর্থবছরেই ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হবে ভারত

10

তেঁতুলিয়ায় ব্যাটারি কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যে ৬ গরুর মৃত্যু

11

যেভাবে রাজনীতিতে সাফল্যের শীর্ষে মির্জা ফখরুল

12

পীরগঞ্জে ২০৮ দুস্থ নারীর হাতে বিনামূল্যে সেলাই মেশিন

13

ইজারার দর কমানোর অভিযোগে তেঁতুলিয়া ইউপিতে বিতর্ক

14

ফুলবাড়ীতে ১৫ যুবক পেল ইলেকট্রিক্যাল হাউজ ওয়্যারিং প্রশিক্ষণ

15

ফুলবাড়ী-পার্বতীপুর উপজেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত

16

সংস্কার কমিশনে ২২ দফা সংস্কার প্রস্তাবনা দিলো মুক্ত গণমাধ্য

17

ফুলবাড়ীতে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে র‍্যালি, পোনা অবমুক্ত ও ক

18

জুলাই গণঅভ্যুত্থান কারও একক পৈতৃক সম্পত্তি নয়: ইশরাক

19

নবম পে স্কেল কার্যকর কবে? যা জানা গেল

20