এ ঘটনায় শান্ত ও বিল্লাল ওরফে কালা বিল্লাল নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে মোহাম্মদপুর থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মোহাম্মদপুর জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা এসব তথ্য জানান।
এ ঘটনায় আহত যুবকের বাবা বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেছেন। মামলায় মোহাম্মদপুরের কিশোর গ্যাংয়ের হোতা মুন্না ওরফে ক্যাপ্টেন মুন্না, রাসেল ওরফে আন্ডা রাসেল, বিল্লাল ওরফে কালা বিল্লাল ও গাঢ়কাটা সাইফুলের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে।
এডিসি জুয়েল রানা জানান, মোহাম্মদপুর লিমিটেড এলাকায় এক যুবককে কুপিয়ে আহত করার ঘটনা ঘটে। পরে ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় মামলা করলে পুলিশ অভিযান শুরু করে। অভিযানে ইতোমধ্যে কিশোর গ্যাংয়ের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে বিল্লাল ওরফে কালা বিল্লালকে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিক তদন্তে হামলার পেছনে ত্রিভুজ প্রেমের বিষয়টি সামনে এসেছে। পুলিশ জানতে পারে, আহত প্রবাসী যুবক লস্কর হৃদয় কয়েক বছর আগে মোসা. হাফসা আক্তারকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর হাফসার সঙ্গে ক্যাপ্টেন মুন্নার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে হাফসা ক্যাপ্টেন মুন্নার সঙ্গে পালিয়ে গিয়ে তাকে বিয়ে করেন।
এর প্রায় তিন বছর পর লস্কর হৃদয় সৌদি আরবে চলে যান। তবে হৃদয় ও হাফসার মধ্যে গোপনে যোগাযোগ অব্যাহত ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। হৃদয় সৌদি আরবে যাওয়ার পর ক্যাপ্টেন মুন্না তাকে ফোন করে হাফসার সঙ্গে যোগাযোগ না রাখতে হুমকি দেন। এরপরও হাফসা নিয়মিত হৃদয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন বলে পুলিশের দাবি।
এডিসি জুয়েল রানা আরও বলেন, হাফসা ক্যাপ্টেন মুন্নার সঙ্গে বিয়ে হওয়ার পরও তার আগের স্বামী হৃদয়ের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখেন। এ নিয়ে মুন্না একাধিকবার হৃদয়কে ফোন করে হুমকি দেন। এরই মধ্যে হৃদয় ছুটিতে দেশে আসেন। তার দেশে ফেরার খবর পেয়ে ক্যাপ্টেন মুন্না তাকে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে আহত করেন বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে।
হৃদয় আহত হওয়ার মাত্র তিন দিন আগে সৌদি আরব থেকে ছুটিতে দেশে এসেছিলেন। বর্তমানে তিনি আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মন্তব্য করুন