হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃ-গোষ্ঠীসহ সব সম্প্রদায়ের মানুষের সমান অধিকার, মর্যাদা ও সুযোগ নিশ্চিত করে সম্প্রীতিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করে একটি সম্প্রীতিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আজ দুপুরে বঙ্গভবনে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম বাসসকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বাংলাদেশে সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করে। দেশের প্রতিটি সম্প্রদায়ের সমান অধিকার রয়েছে। তাই সবার সমান অধিকার, মর্যাদা ও সুযোগ নিশ্চিত করে একটি সম্প্রীতিপূর্ণ দেশ গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, বিগত সরকারের সৃষ্টি করা সংকট থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে দেশকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। নৃ-গোষ্ঠী, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষের বিভিন্ন সমস্যা, দুঃখ-কষ্ট ও প্রত্যাশার বিষয়ে তিনি অবগত রয়েছেন বলেও জানান।
সাক্ষাৎকালে ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সফল করতে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশগ্রহণ ও সহযোগিতার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন রাষ্ট্রপতি।
সংরক্ষিত নারী আসনে এই তিন সম্প্রদায়ের প্রার্থীদের বেশি করে মনোনয়নের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় সব সম্প্রদায়ের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
রাষ্ট্রপতি হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি জাতীয় কমিটি গঠনের আহ্বান জানান। সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে বিভিন্ন বিষয় যথাযথভাবে তুলে ধরতে এ ধরনের কমিটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, দেশের উন্নয়নে সবার প্রতিনিধিত্ব ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। কোনো একটি পক্ষের পক্ষে একা এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।
সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতিকে আসন্ন দুর্গাপূজায় ঢাকেশ্বরী ও রমনা কালী মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানায়। রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণ গ্রহণ করে সেখানে উপস্থিত থাকার বিষয়ে আশ্বস্ত করেন।
এ সময় প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির কাছে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া তুলে ধরা হয়। জবাবে তিনি সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন।
প্রতিনিধিদলে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান বিজন কান্তি সরকার, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের উপদেষ্টা তপন চন্দ্র মজুমদার, ধর্ম বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট জন গমেজ, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের উপদেষ্টা সুশীল চন্দ্র বড়ুয়াসহ হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিবও উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন