অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : Oct 19, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

সৌদিতে নজরুলের মৃত্যুদণ্ড, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শোকের মাতম

সৌদি আরবে বাংলাদেশি যুবক নজরুল ইসলামের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবরে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন তাঁর বাবা-মা। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তানকে হারানোর শোক কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না তাঁরা। ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে শেষবারের মতো দেখার আকুতি জানিয়েছেন মা।


সৌদি আরবের মক্কায় বাংলাদেশি যুবক নজরুল ইসলামের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় তাঁর গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের বিরামপুর গ্রামে শোকের মাতম চলছে। পরিবারের দাবি, বাংলাদেশ কনস্যুলেট কিংবা স্বজনদের না জানিয়েই তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

গত ১৪ অক্টোবর সৌদি আরবের মক্কায় ‘কথিত’ অনৈতিক কাজের অভিযোগে এক নারীসহ নজরুল ইসলামের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে দেশটির সরকার। গণমাধ্যমের খবরের মাধ্যমে পরিবার এ তথ্য জানতে পারে।

নজরুল ইসলাম চার ভাইবোনের মধ্যে সবার বড়। এসএসসি পাস করার পর পরিবারের দায়িত্ব নিতে ২০২২ সালে সৌদি আরবে পাড়ি জমান তিনি। সেখানে মক্কার হারাম শরিফে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, সৌদি আরবে যাওয়ার সাত মাস পর থেকেই নজরুলের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পরে একদিন ফোন করে তিনি জানান, কারাগারে বন্দি রয়েছেন। তবে কী কারণে তাঁকে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে পরিবারকে কিছু জানাননি তিনি।

নজরুলের বাবা আবদুল বাছির বলেন, তিন বছরের বেশি সময় ধরে তাঁর ছেলে সৌদি আরবে আটক ছিলেন। গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ কনস্যুলেট কিংবা পরিবারকে না জানিয়েই তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে নজরুলকে আইনি সহায়তা ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল কি না এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের ভূমিকা কী ছিল। এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদও জানান তিনি।

নজরুলের মা রেহেনা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, এসএসসি পাস করার পর তাঁর ছেলে আর পড়াশোনা করতে চাননি। ছোট তিন ভাইবোনের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে পরিবারের হাল ধরতে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন।

ছেলের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ছোট ভাইবোনদের জন্য কিছু করার ইচ্ছার কথা নজরুল তাঁকে জানিয়েছিলেন। গত রোববারও ছেলের সঙ্গে শেষবারের মতো কথা হয়েছিল। সেদিন পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছিলেন নজরুল। কিন্তু বুধবার তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর জানতে পারেন তাঁরা।

রেহেনা বেগম বলেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে তাঁদের কিছুই জানানো হয়নি। সরকারের কাছে তাঁর আকুতি, ছেলের মরদেহ যেন দেশে ফিরিয়ে আনা হয়, যাতে শেষবারের মতো তাঁকে দেখতে পারেন।

এদিকে নজরুলের মৃত্যুর খবর শোনার পর শোক সইতে না পেরে সেদিনই হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তাঁর ফুফু আবেদা বেগম (৬৫)। এ ঘটনায় পুরো গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শোকার্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে স্বজন ও এলাকাবাসী তাঁদের বাড়িতে ভিড় করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, বাংলাদেশ সরকারকে না জানিয়ে এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে এভাবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ জানান, নজরুলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। মরদেহ দেশে ফিরলে ভুক্তভোগী পরিবারকে সহায়তা করা হবে।


মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইস্তাম্বুলে যাত্রাবিরতি শেষে নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী

1

১৭ বছরে গ্যাস কূপ খনন হয়নি: এস এম জিলানী

2

ফুলবাড়ীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে র‌্যালি ও আলোচনা সভা

3

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে টেলিনরের বিরুদ্ধে তদন্ত

4

ফুলবাড়ী পৌরসভার ৬২ কোটি ৬৮ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা

5

মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি সংশোধনের দাবিতে শুক্রবার গণসংহতির সমা

6

দলের নাম ভাঙিয়ে মানুষকে কষ্ট দিলে ছাড় নয়: তারেক রহমান

7

এটা স্কুল নয়, শাস্তিও নয়—বললেন ভারতের প্রধান নির্বাচক

8

কিউ-ক্যাশে ডিজিটাল লেনদেন ব্যাহত, দ্রুত সেবা চালুর নির্দেশ

9

বরিশালে এক নবজাতককে ৩ দিন ধরে পাওয়া যাচ্ছে না, মায়ের বিরুদ্ধ

10

বিরোধীদলের লংমার্চ গণতন্ত্রের জন্য হুমকি: পানিসম্পদমন্ত্রী

11

বিয়ের অনুষ্ঠানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, যুক্তরাষ্ট্রকে ‘মহাশয়তান

12

ঢাকা ওয়াসা ভবনে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভা

13

ফুলবাড়ীতে ২৯ বিজিবির ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা পেল প

14

বায়তুল মোকাররমে ১১ দলীয় ঐক্যের গণসমাবেশ শুরু

15

পীরগঞ্জে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

16

দর্শনার্থীশূন্য ফল মেলা, প্রশ্নে আয়োজনের কার্যকারিতা

17

ফুলবাড়ীতে গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন পরিকল্পনা বিষয়ক কর্মশালা

18

সাগরে মালয়েশিয়াগামী ৬৫ যাত্রী উদ্ধার, আটক ১১ মানবপাচারকারী

19

কেন মেয়াদ শেষের আগেই পদ ছাড়লেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন

20