ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোহাঃ শাহজাহান কবির (বকুল)-এর বিরুদ্ধে এমপিও নথিতে অনিয়ম ও ঘষামাজা করে অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে বৈধ রেজুলেশন ও সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন ছাড়াই তাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পীরগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোহাঃ শাহজাহান কবির (বকুল)-এর বিরুদ্ধে এমপিও-সংক্রান্ত নথিপত্রে অনিয়ম, ঘষামাজা ও জালিয়াতির মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির বৈধ রেজুলেশন ও সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন ছাড়াই তাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও সূত্রের বরাতে জানা যায়, শাহজাহান কবির ১৯৯৯ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর হরিপুর উপজেলার ভাটুরিয়া দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক (গণিত) পদে যোগদান করেন। একই বছরের আগস্ট মাসের এমপিও শিটে তিনি ১১ কোডে প্রথম এমপিওভুক্ত হন। পরে ২০০০ সালের ১ জুন তিনি বিএড স্কেল অর্জন করেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী বিএড স্কেল পাওয়ার আট বছর পর টাইম স্কেল পাওয়ার বিধান থাকলেও প্রথম এমপিও শিটে ঘষামাজা করে বিএড স্কেলের কোড পরিবর্তনের মাধ্যমে তিনি নিয়মবহির্ভূতভাবে টাইম স্কেল গ্রহণ করেন।
এ ছাড়া ২০০৫ সালের ডিসেম্বর মাসের এমপিও শিট, যা ০১/১১/২০০৫ তারিখ থেকে কার্যকর, ব্যবহার করে তিনি সে সময় নিয়মবহির্ভূতভাবে আরও উচ্চতর স্কেলের সুবিধা নেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দীর্ঘ সময় ধরে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
পরবর্তীতে শাহজাহান কবির ভাটুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে পদত্যাগ করে পীরগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগ দেন। ভাটুরিয়া বিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রধান শিক্ষকের প্রত্যয়নপত্রেও তার শিক্ষকতা জীবন ও পদত্যাগসংক্রান্ত তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পীরগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদানের পর সম্প্রতি কোনো বৈধ রেজুলেশন ছাড়াই তাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের চার সদস্যের অ্যাডহক কমিটির দুই সদস্য লিখিতভাবে জানিয়েছেন, তাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক করার বিষয়ে তারা অবগত নন এবং এ-সংক্রান্ত কোনো রেজুলেশনে তারা স্বাক্ষর করেননি।
এসব অনিয়ম, জালিয়াতি ও রাষ্ট্রীয় অর্থের অনিয়মের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ রয়েছে দাবি করে বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক এবিএম মহিউদ্দিন প্রতিকার চেয়ে জেলা শিক্ষা অফিসার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে নেওয়া অতিরিক্ত অর্থ ফেরত আনা এবং জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক শাহজাহান কবির বকুলের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরে বিদ্যালয়ে গিয়েও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি শিরিন বানু বলেন, “এমপিও জালিয়াতির বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তা পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ঠাকুরগাঁও জেলা শিক্ষা অফিসার মো. শাহীন আকতার বলেন, “অভিযোগপত্র হাতে পেয়েছি, বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”