কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদের দানবাক্সে পাওয়া গেছে ১ হাজার ৪৪ ভরি সোনা ও ১ হাজার ৮৮ ভরি রুপা। সোমবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এদিকে দানবাক্সে পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রা গণনার কাজ চলমান রয়েছে।
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সে জমা পড়া দানসামগ্রী গণনা ও পরিমাপ করে ১ হাজার ৪৪ ভরি সোনা এবং ১ হাজার ৮৮ ভরি রুপা পাওয়া গেছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসন সূত্রে এ তথ্য জানা যায়। তবে বৈদেশিক মুদ্রা গণনার কাজ তখনো শেষ হয়নি।
রূপালী ব্যাংকের এজিএম মোহাম্মদ হারেসী জানিয়েছেন, বৈদেশিক মুদ্রা গণনার কাজ শেষ হতে রাত ৮টা পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
এর আগে জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানান, ট্রেজারিতে সংরক্ষিত নয়টি মাঝারি আকারের প্লাস্টিকের কনটেইনার ও ছয়টি সিলগালা করা খাম খুলে দানসামগ্রী গণনা ও পরিমাপ করা হচ্ছে। প্রাপ্ত সোনা ও রুপার ওজন এবং ক্যারেট যাচাই শেষে নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে। অন্যদিকে, বৈদেশিক মুদ্রা বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ বিনিময় হার অনুযায়ী নগদায়ন করা হবে।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে গঠিত নয় সদস্যের উপকমিটির তত্ত্বাবধানে পুরো কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এতে জেলা প্রশাসনের তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের পাশাপাশি পুলিশ, আনসার, ব্যাংক কর্মকর্তা ও স্বর্ণকারেরা সহযোগিতা করছেন।
সোমবার সকাল পৌনে ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে দানসামগ্রী গণনা ও পরিমাপের কার্যক্রম শুরু হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন, জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক মো. রমজান আলী, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (উপসচিব) জেবুন নাহার শাম্মী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইশতিয়াক ইমন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জেসমিন আক্তার এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
জেলা জুয়েলারি সমিতির ১০ জন সদস্য সোনা ও রুপার ওজন নির্ধারণ এবং পরিমাপের কাজে অংশ নেন।
এর আগে ২০২০ সালের ১১ মার্চ পাগলা মসজিদের দানবাক্সে পাওয়া ৪১৫ ভরি ১ আনা সোনা ও ১৬৪ ভরি রুপা নিলামে বিক্রি করা হয়েছিল। এসব মূল্যবান ধাতু বিক্রি করে মোট ১ কোটি ১৫ লাখ ৪ হাজার ১০০ টাকা পাওয়া যায়। এ ছাড়া বৈদেশিক মুদ্রা নগদায়ন করে আয় হয়েছিল ১ লাখ ২৭ হাজার ৬৫১ টাকা।
সর্বশেষ চলতি বছরের ২৭ জুন পাগলা মসজিদের দানবাক্স খোলা হয়েছিল। বর্তমানে মসজিদের তহবিলে মোট ১৩১ কোটি ৪১ লাখ ৪৪ হাজার ৮১০ টাকা জমা রয়েছে। পাশাপাশি মসজিদের নিজস্ব ওয়েবসাইট চালুর পর থেকে অনলাইনে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ৩৯ লাখ ৩২ হাজার ১০৬ টাকা অনুদান পাওয়া গেছে।
মন্তব্য করুন