অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : Oct 6, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

ছাত্র আন্দোলনে উত্তাল ফ্রান্স, বন্ধ ১ হাজার ৮০০ স্কুল

দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, শিক্ষক সংকট ও জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষের প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার দেশটির বিভিন্ন শহরে প্রায় ৮৬ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। এদিন প্রায় ১ হাজার ৮০০ উচ্চবিদ্যালয় অবরুদ্ধ বা বন্ধ ছিল।


জাতীয় লিসে শিক্ষার্থী ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের ৩ হাজার ৭০০ উচ্চবিদ্যালয়ের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৮০০টি মঙ্গলবার অবরুদ্ধ ছিল অথবা দিনের জন্য বন্ধ রাখা হয়। কয়েকটি এলাকায় শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

গত দুই সপ্তাহ ধরে চলা এই আন্দোলনে বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়েছে। কোথাও বিক্ষোভকারীরা আবর্জনার স্তূপে আগুন দেন, বাসস্টপ ভাঙচুর করেন এবং পুলিশের দিকে বিভিন্ন বস্তু নিক্ষেপ করেন। জবাবে পুলিশ লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস ও দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত অস্ত্র প্রয়োগ করে।

ফ্রান্সের শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আন্দোলন শুরুর পর ২৪টি স্কুলে আগুন দেওয়া বা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষে অন্তত ৭১৫ পুলিশ কর্মকর্তা ও ২১৫ কিশোর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ৬ হাজার ১০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক। এ ছাড়া ১ হাজার ৮০০ জনের বেশি ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা চলছে।

বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে অনুপস্থিত শিক্ষকদের দ্রুত বদলি শিক্ষক দিয়ে পূরণ করা, সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দীর্ঘ স্কুল সময় পুনর্বিবেচনা এবং জরাজীর্ণ স্কুল ভবন সংস্কার।

প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু এসব দাবি পূরণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে মন্ত্রীদের নির্দেশ দিয়েছেন।

এদিকে বিক্ষোভ দমনে পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগও উঠেছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ফ্রান্সে তরুণ বিক্ষোভকারীদের ওপর ‘অসামঞ্জস্যপূর্ণ পুলিশি দমন’ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। পুলিশের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের অভিযোগে ইতোমধ্যে ১০টি অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ।

বিক্ষোভে গুরুতর আহতদের মধ্যে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরের হাত বিচ্ছিন্ন হয়েছে। ট্যুর শহরে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোর মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছে। প্যারিসের উত্তর-পশ্চিমে পুলিশের একটি গ্রেনেডের আঘাতে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরের অধিকাংশ দাঁত ভেঙে গেছে বলে তার পরিবার জানিয়েছে।

আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাত্র সাত মাস আগে এই আন্দোলন সরকারকে আরও চাপের মুখে ফেলেছে। একই সময়ে ফ্রান্সের বাড়তে থাকা বাজেট ঘাটতি, ঋণ ও দুর্বল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগও বাড়ছে।

সরকার বামপন্থি দল লা ফ্রঁস ইনসুমিজকে আন্দোলনে উৎসাহ দেওয়ার অভিযোগ করেছে। দলটির নেতা ও প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জঁ-লুক মেলঁশোঁ বিক্ষোভের প্রতি সমর্থন জানালেও সহিংসতা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।


মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মানবিক সহায়তা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

1

সিনেমা সমাজের মানসিকতা পরিবর্তনের শক্তিশালী মাধ্যম: তথ্যমন্ত

2

হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে বিচার শেষ করতে সরকারের চেষ্টা অব্যাহত

3

শনিবার বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

4

বিএনপির নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করলে ছাড় নয়: নজরুল ইসলাম খান

5

হানাহানি নয়, সমঝোতায় দেশ এগিয়ে নিতে হবে: রাষ্ট্রপতি

6

আ.লীগের বিরুদ্ধে কার্যকর তদন্ত চলছে: চিফ প্রসিকিউটর

7

খায়রুল কবির খোকন বললেন, ‘তারেক রহমানই সরকার পতন আন্দোলনের মা

8

৫ আগস্ট কাশ্মীরে কেন ‘কালো দিবস’?

9

ফুলবাড়ীতে প্রিপেইড মিটার বন্ধের দাবিতে স্মারকলিপি

10

‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত: মির্জা

11

জাসদ কার্যালয়ে তালা, আটক দুই শতাধিক

12

আন্দোলনের পর শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, দায়িত্বে প্রহ্লাদ যোশী

13

ফুলবাড়ী কয়লাখনি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ

14

ইটনায় ইউএনওর আকস্মিক পরিদর্শন, হাজিরা খাতায় ৬ শিক্ষকের সই, উ

15

হাসিনাকে ফেরত না দেওয়ায় ভারতের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রিজভীর

16

সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে: স্থানীয় সরক

17

গুলশানে সাবেক ভূমিমন্ত্রীর দুই ফ্ল্যাটের নিয়ন্ত্রণ নিল দুদক

18

কাতারের এলএনজি সরবরাহ বন্ধের মেয়াদ বাড়ল, চাপে বাংলাদেশ-ভারত-

19

সরকারের সরলতাকে দুর্বলতা ভাবলে ভুল হবে: চিফ হুইপ

20