প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেকের দীর্ঘ নয় বছর পর ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন মিম মোসাদ্দেক। জাতীয় ক্রিকেট লিগে ২৩তম ম্যাচে এসে এই সাফল্য পাওয়া রংপুরের এই ক্রিকেটার নিয়মিত খেলার সুযোগ পেলে আরও ভালো করার প্রত্যাশা করছেন।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল ২০১৭ সালে। এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ নয় বছর। অবশেষে চলমান জাতীয় ক্রিকেট লিগে নিজের ২৩তম ম্যাচে এসে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন মিম মোসাদ্দেক। প্রথম বিভাগ ক্রিকেটে নিয়মিত রান করলেও পরবর্তী পর্যায়ে ধারাবাহিকভাবে খেলার সুযোগ পাননি তিনি। তাই এই সেঞ্চুরি তাঁর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসানের পাশাপাশি নতুন করে আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে।
বাংলানিউজের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে নিজের অর্জন, ক্রিকেটে পথচলা, নিয়মিত খেলার সুযোগ না পাওয়া এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন মিম।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে প্রথম সেঞ্চুরি পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে মিম বলেন, প্রথম সেঞ্চুরির আনন্দ অন্য রকম। অর্জনটি তাঁকে আনন্দিত করার পাশাপাশি কিছুটা নির্ভারও করেছে। সব মিলিয়ে তিনি সন্তুষ্ট, আলহামদুলিল্লাহ।
অভিষেক ম্যাচে ৬৩ রান করেও সেঞ্চুরি না পাওয়ার প্রসঙ্গে মিম জানান, এবারের ইনিংসের জন্য বিশেষ কোনো পরিকল্পনা ছিল না। তিনি স্বাভাবিকভাবেই বল ধরে ধরে খেলার চেষ্টা করেন। নিজের পছন্দের ধরনে ব্যাটিং করার পাশাপাশি দলের জন্য অবদান রাখাই তাঁর মূল লক্ষ্য।
চ্যাম্পিয়ন দলের পরিবেশ পারফরম্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে বলে মনে করেন এই ক্রিকেটার। তবে সেঞ্চুরির ইনিংসে তাঁর মূল মনোযোগ ছিল রান করার দিকে। প্রথম ইনিংসে রান পাওয়ার পর আত্মবিশ্বাস বেড়েছে উল্লেখ করে মিম বলেন, ওই ইনিংসের পর তাঁর মনে হয়েছে, বড় ইনিংস খেলাও তাঁর পক্ষে সম্ভব।
২০১৭ সালে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হলেও দীর্ঘ সময় ধরে নিয়মিত ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি মিম। এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, তাঁর অভিষেকের সময় লিটন কুমার দাস নিয়মিত খেলতেন এবং দলে উইকেটকিপার হিসেবে ধীমান ঘোষও ছিলেন। ফলে একাদশে সুযোগ পাওয়া কঠিন ছিল। শুধু দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটেই নয়, লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটেও তাঁর ম্যাচের সংখ্যা মাত্র দুটি।
প্রিমিয়ার লিগে দল না পাওয়ায় নয়, বরং নিয়মিত খেলার সুযোগ বিবেচনা করেই প্রথম বিভাগ ক্রিকেটে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান মিম। তাঁর মতে, কখন কোথায় সুযোগ পেয়েছেন, সেটি তাঁর নিয়ন্ত্রণে ছিল না। তবে প্রতিটি সুযোগেই নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। নিয়মিত ম্যাচ খেলার সুযোগ পেলে হয়তো আরও আগেই এমন সাফল্য আসতে পারত বলেও মনে করেন তিনি।
প্রথম বিভাগ ক্রিকেটে সাম্প্রতিক দুই মৌসুমের পারফরম্যান্সও উল্লেখযোগ্য। মিম জানান, আগের মৌসুমে খেলাঘরের হয়ে চারটি সেঞ্চুরিসহ প্রায় ৬৭৫ রান করেছিলেন। সর্বশেষ মৌসুমে পুলিশের হয়ে নয় ম্যাচে তাঁর সংগ্রহ ছিল ৩৮০ রান।
তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন বোর্ডের উদ্যোগে দ্বিতীয় একাদশের টুর্নামেন্ট চালুর বিষয়ে মিম বলেন, এ ধরনের আয়োজন আরও আগে শুরু হলে তাঁর মতো ক্রিকেটাররা নিয়মিত ম্যাচ খেলার সুযোগ পেতেন এবং নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের মঞ্চ খুঁজে পেতেন। অনেক ক্রিকেটার সুযোগের অভাবে নিজেদের সামর্থ্য তুলে ধরতে পারেন না। এমন টুর্নামেন্ট তাঁদের ভালো খেলার পাশাপাশি নির্বাচকদের নজরে আসার সুযোগ তৈরি করবে। দেরিতে হলেও উদ্যোগটি নেওয়ায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
ক্রিকেটে নিজের শুরুর গল্প জানাতে গিয়ে মিম বলেন, বন্ধুদের অনুশীলন দেখেই তাঁর ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। স্কুলের ফাঁকে টেপ টেনিস ক্রিকেট খেলতেন। পরে এক বন্ধুর পরামর্শে রংপুর ক্রিকেট একাডেমিতে ক্রিকেট বলে অনুশীলন শুরু করেন। ২০১০ সালে ঢাকা লিগের দ্বিতীয় বিভাগে খেলার মধ্য দিয়ে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে তাঁর যাত্রা শুরু হয়। রংপুর ক্রিকেট একাডেমির কোচ শাকিল রায়হানের কাছেই ক্রিকেটের প্রাথমিক শিক্ষা পেয়েছেন বলে জানান তিনি।
জাতীয় পর্যায়ে উইকেটকিপার-ব্যাটারদের প্রতিযোগিতা সম্পর্কে মিম বলেন, বাংলাদেশের ক্রিকেট অনেক এগিয়েছে এবং প্রতিযোগিতাও বেড়েছে। তাই এই অবস্থানে সুযোগ পাওয়া ও টিকে থাকা এখন বেশ চ্যালেঞ্জিং।
চলমান লিগে টানা দুই ম্যাচে রান পাওয়ায় আত্মবিশ্বাস বেড়েছে মিমের। সামনের ম্যাচগুলোতেও এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চান তিনি। তবে নির্দিষ্ট কোনো রানসংখ্যার লক্ষ্য নিয়ে ব্যাটিং করেন না। নিজের খেলার প্রক্রিয়া ঠিক রেখে লিগ শেষ করতে চান ভালো পারফরম্যান্সের মাধ্যমে।
মন্তব্য করুন