রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে দ্বিতীয় দফায় সড়ক অবরোধ শুরু করেছে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ৬টা থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচির কারণে সাজেক পর্যটন সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা ভোগান্তিতে পড়েছেন।
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে তিন দফা দাবিতে দ্বিতীয় দফায় সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে দুটি আঞ্চলিক সংগঠন। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ৬টা থেকে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে এ কর্মসূচি শুরু হয়।
অবরোধের সমর্থনে বিভিন্ন স্থানে সড়কে টায়ার ও গাছের গুঁড়িতে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করছেন কয়েকজন গ্রামবাসী। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বাঘাইহাটের ১০ নম্বর এলাকা, গঙ্গারাম সেতু এবং মাচলঙের ১৪ কিলোসহ কয়েকটি স্থানে সড়ক অবরোধ করা হয়েছে।
অবরোধের কারণে সাজেক পর্যটন সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে সাজেকে যেতে চাওয়া পর্যটক, সেখান থেকে ফিরতে থাকা ভ্রমণকারী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা দুর্ভোগে পড়েছেন।
অবরোধকারীদের তিন দফা দাবির মধ্যে অন্যতম হলো পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস-সন্তু লারমা) সশস্ত্র সদস্যদের এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া।
এর আগে গত ১১ অক্টোবর একই দাবিতে সাজেক পর্যটন সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ডাক দিয়েছিল সংগঠন দুটি। ওই দিন বিকেলে প্রশাসনের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে ৪৮ ঘণ্টার জন্য কর্মসূচি স্থগিত করা হয়। পরে বুধবার এক যৌথ বিবৃতিতে দ্বিতীয় দফায় অবরোধের ঘোষণা দেন সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা এবং সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা।
যৌথ বিবৃতিতে সংগঠন দুটি অভিযোগ করে, সাজেক এলাকায় জেএসএসের সশস্ত্র তৎপরতা শুরু হয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সমাবেশের মাধ্যমে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দাবি তাদের। এ কারণে পুনরায় সড়ক অবরোধের কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে জেএসএস। সংগঠনটির দাবি, ইউপিডিএফের চাপে পড়ে সংগঠন দুটি অবরোধের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। জেএসএসের প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা বলেন, সাজেকে স্থানীয় জনগণের ওপর ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যদের দীর্ঘদিনের নিপীড়ন ও হয়রানির অভিযোগ আড়াল করতেই জেএসএসের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে।
এর আগে গত রোববার অবরোধের কারণে পর্যটকবাহী যানবাহন সাজেকে আটকা পড়ে। ওই দিন সন্ধ্যায় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে সাজেক পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন।
বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন বলেন, সড়কে কোনো যানবাহন চলাচল করছে না। অবরোধকারীরা বিভিন্ন স্থানে গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়ক বন্ধ করে রেখেছেন। তবে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানান তিনি।
মন্তব্য করুন