গুপ্ত বাহিনী’ ও ক্ষমতাচ্যুত বিগত সরকারের অনুসারীরা আবারও একত্র হয়ে দেশে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জনগণকে এসব তৎপরতার বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বিকেলে ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ এবং মসজিদের ইমাম, মোয়াজ্জিন, খাদেম ও মন্দিরের পুরোহিতদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
‘গুপ্ত রাজনীতি’ ও ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচার সরকারের রাজনীতি সম্পর্কে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, যারা এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত, জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনে তাদের কোনো কর্মসূচি নেই। তারা কেবল ক্ষমতা দখলের রাজনীতিতে যুক্ত।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সরকারের কর্মসূচিগুলো যদি সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে হয়, তবে আজ আমাদের সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “যারা গুপ্ত রাজনীতি করে, যারা স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার রাজনীতি চর্চা করে এবং যাদের জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের কোনো কর্মসূচি নেই, কেবল ক্ষমতা যাওয়ার জন্যই রাজনীতি করে, তাদের ব্যাপারে আমাদের সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে।”
তারেক রহমান বলেন, নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা শুধু দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করবে না, মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়নে সরকারের নেওয়া কর্মসূচিও বাধাগ্রস্ত করবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আজ আমি মায়েদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দিয়েছি, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড, ইমাম-মোয়াজ্জিনদের সম্মাননা এবং দুঃস্থ মানুষদের আর্থিক সহায়তা দিয়েছি। দেশে যদি অরাজকতা দেখা দেয়, তবে কি এই কার্যক্রমগুলো পরিচালনা করা সম্ভব হবে?”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ তাদের ভাগ্যের পরিবর্তনের পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন চায়। এ কারণেই সরকার ধীরে ধীরে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে নারীদের নিয়মিত সহায়তা দেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, কৃষক কার্ডের আওতায় ধীরে ধীরে কৃষকদের সার, কীটনাশক ও বীজসহ কৃষি উপকরণে সহায়তা দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, “সামাজিকভাবে ও অর্থনৈতিকভাবে এই মানুষগুলো ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী হয়ে উঠবে এবং যখন বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ সমৃদ্ধ হবে, তখন বাংলাদেশও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধশালী হয়ে উঠবে।”
প্রধানমন্ত্রী জানান, সারা দেশে এরই মধ্যে এক লাখের বেশি কৃষক কৃষক কার্ড পেয়েছেন।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সাম্প্রতিক ‘এক দফা’ দাবির প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান প্রশ্ন করেন, যারা এ ধরনের ডাক দিচ্ছেন, তাদের ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ, ইমাম-মোয়াজ্জিনদের সম্মাননা প্রদান কিংবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সম্প্রসারণের মতো কোনো জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি রয়েছে কি না।
তিনি প্রশ্ন করেন, “তাহলে তারা কোন ধরনের রাজনীতি চর্চা করেন? জনগণের কল্যাণে তাদের কর্মসূচি কোথায়?”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বাস্তবায়ন, ইমাম ও মোয়াজ্জিনদের সম্মাননা প্রদান, খাল খনন এবং বন্ধ থাকা কল-কারখানা পুনরায় চালু করা।
এসব কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আপনারা যদি এসব কর্মসূচি না দেখে থাকেন, তাহলে যারা দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে, যারা দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়, তাদের ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।”
‘গুপ্ত বাহিনী’ ও ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচার সরকারের মধ্যে যোগসূত্রের অভিযোগ তুলে তারেক রহমান বলেন, স্বৈরাচার ক্ষমতা ছাড়ার কয়েকদিন পর ওই ‘গুপ্ত বাহিনী’র লোকজন বলেছিল, তারা ফিরে এলে, থাকলে বা কাজ করলে তাদের কোনো আপত্তি নেই।
তিনি বলেন, “তাদের কোনো আপত্তি থাকবে কেন? তারা তো বরাবরই তো একসঙ্গে ছিল।” তার অভিযোগ, এই দুই পক্ষ ১৯৮৬, ১৯৯১ এবং সর্বশেষ সাম্প্রতিক নির্বাচনেও একসঙ্গে কাজ করেছে। তার ভাষায়, “এজন্যই তো তাদের ‘গুপ্ত’ বলা হয়।”
বিগত ১৭ বছরে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর নিপীড়ন, কারাবাস ও ‘গায়েবি মামলা’র প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই সরকারের বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত জনগণই রাজপথে নেমে এসেছিল।
তিনি বলেন, বিগত সরকারের অন্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ ও গণআন্দোলনের মুখে ৫ আগস্ট জনগণ তাদের ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করেছিল।
মন্তব্য করুন