ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসে ভারপ্রাপ্ত পেশকারের নির্ধারিত চেয়ারে সার্ভেয়ার ফিরোজ বিন আনছারীর বসে থাকার একটি ছবি প্রকাশ্যে আসার পর দাপ্তরিক শিষ্টাচার, দায়িত্ব বণ্টন ও অফিসের শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ছবিতে দেখা যায়, সার্ভেয়ার ফিরোজ বিন আনছারী ভারপ্রাপ্ত পেশকার ওয়াহিদুর রহমানের নির্ধারিত চেয়ারে বসে আছেন। এ সময় তাঁর এক পা অপর পায়ের ওপর তোলা ছিল। তাঁর সামনে একটি চেয়ারে বসে ছিলেন দিনাজপুর থেকে আসা সেবাগ্রহীতা আরমান আলী। পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন তথ্য সংগ্রহের কাজে যাওয়া সংবাদকর্মী মুজিবুর রহমান।
জানা গেছে, ভারপ্রাপ্ত পেশকার ওয়াহিদুর রহমান সড়ক দুর্ঘটনায় অসুস্থ হয়ে ছুটিতে থাকাকালে ঘটনাটি ঘটে। তবে ওই সময়ে সার্ভেয়ার ফিরোজ বিন আনছারী পেশকারের ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে ছিলেন কি না, কিংবা তাঁর নির্ধারিত চেয়ার ব্যবহারের অনুমতি ছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় দায়িত্বে না থাকা অবস্থায় একজন কর্মচারীর নির্ধারিত চেয়ারে অন্য কর্মচারীর বসা এবং সেখানে পা তুলে বসার বিষয়টি দাপ্তরিক শিষ্টাচার ও অফিসের শৃঙ্খলার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে সরকারি দপ্তরে পদ ও দায়িত্ব অনুযায়ী কর্মপরিবেশ এবং শৃঙ্খলা কতটা নিশ্চিত করা হচ্ছে, সে বিষয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে।
সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৩০ ধারায় সরকারি কর্মচারীর আচরণ ও শৃঙ্খলার বিষয় সংশ্লিষ্ট বিধি ও সরকারি আদেশের মাধ্যমে নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। এ কারণে ওই সময়কার দায়িত্ব বণ্টন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রচলিত দাপ্তরিক নিয়ম কী ছিল, তা যাচাই করা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।
ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে পীরগঞ্জ উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসে গিয়ে সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার পলাশ কুমার সরকারকে পাওয়া যায়নি। জানা যায়, তিনি অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের জন্য পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় অবস্থান করছিলেন। পরে তাঁর বক্তব্য জানতে সরকারি মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এদিকে নির্ধারিত চেয়ারের দায়িত্বে থাকা ভারপ্রাপ্ত পেশকার ওয়াহিদুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আনুমানিক ১০ থেকে ১৫ দিন যাবত আমি সড়ক দুর্ঘটনায় অসুস্থ হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছি। তবে তিনি যদি আমার চেয়ারে এভাবে পা তুলে বসে আপনার সঙ্গে বেয়াদবি করে থাকেন, এটি অবশ্যই আইনবহির্ভূত কাজ। এই কাজ মোটেও তাঁর করা ঠিক হয়নি।’
পীরগঞ্জ উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসে সেবাগ্রহীতাদের উপস্থিতিতে ঘটে যাওয়া এ ধরনের দৃশ্য দাপ্তরিক পরিবেশ, আচরণবিধি ও অফিসের শৃঙ্খলা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
মন্তব্য করুন