
শেখ হাসিনাকে পুনর্বাসন করে হারানো ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে দেশকে অস্থিতিশীল করার গভীর ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, বাসে আগুন, বিস্ফোরণ ও বোমা হামলার পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করার অপচেষ্টা চলছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর গুলশান-২ এলাকায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল আয়োজিত ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার প্রতিবাদে’ মিছিলপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন রুহুল কবির রিজভী।
রিজভী বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগের পতন হয়েছে। এখন হারানো ক্ষমতা ও রাজত্ব পুনরুদ্ধারের জন্য পরাজিত শক্তি বেআইনি ও সন্ত্রাসী পন্থা বেছে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, কয়েক দিন ধরে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় ছোট শিশু, গাড়িচালক, বাসের কর্মী, দিনমজুর ও রিকশাচালকদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলে বাসে আগুন দেওয়া এবং বিস্ফোরণ ঘটানোর ঘটনা ঘটছে।
রিজভীর দাবি, সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের নয়—এমন একটি টেলিফোন নম্বর থেকে বাংলাদেশে অবস্থানরত ব্যক্তিদের ফোন করে বোমার ডিভাইসের ছবি পাঠাতে বলা হচ্ছে। ছবি পাঠানোর পর তাদের অর্থ দেওয়ার কথাও বলা হচ্ছে।
তিনি বলেন, এসব ঘটনা বড় ধরনের পরিকল্পনা ও অশুভ চক্রান্তের ইঙ্গিত দেয়। তাঁর অভিযোগ, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রকে বিনষ্ট করার চেষ্টা চলছে এবং এ চক্রান্ত অত্যন্ত গভীর।
রিজভী আরও বলেন, শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব দুর্যোগপূর্ণ অবস্থায় ছিল এবং দেশ গণতন্ত্রের দিকে এগোয়নি। তাঁর অভিযোগ, সে সময় বাংলাদেশ অন্য দেশের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালিত হয়েছে। এখন পার্শ্ববর্তী দেশের সুযোগ নিয়ে আবার শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে পুনর্বাসনের পর আবার সেই ‘ফ্যাসিবাদের দেহে’ আগের রাজত্ব ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। তবে এটি সহজ হবে না। দলমত নির্বিশেষে স্বৈরাচারের পতন হয়েছে এবং সেই রাজত্ব আর ফিরে আসতে পারে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রিজভী বলেন, যে অত্যাচার, নিপীড়ন ও শাসনব্যবস্থার কারণে বাংলাদেশে রক্তের স্রোত বয়ে গেছে, সেই রাজত্ব ফিরিয়ে আনার চেষ্টা সফল হতে দেওয়া হবে না। হাজার হাজার মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের আত্মা এবং আল্লাহর পক্ষ থেকেও সেই ক্ষমতা আর ফিরে আসতে দেওয়া হবে না।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘আমরা শেখ হাসিনাকে চাই, শেখ হাসিনাকে পার্শ্ববর্তী দেশ ফিরিয়ে দিতে চায় না।’ তাঁর দাবি, শেখ হাসিনা লাখ লাখ মানুষকে পাখির মতো গুলি করে হত্যা করেছেন। কিশোরদের হত্যার জন্য সরাসরি নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ যার বিরুদ্ধে রয়েছে, তার চেয়ে বড় বর্বরতা আর কী হতে পারে—এ প্রশ্নও তোলেন তিনি।
শেখ হাসিনার বিচার হবে এবং আদালতের দেওয়া রায় অনুযায়ী তাঁকে সাজা ভোগ করতে হবে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, যেকোনো দিন তিনি বিচারের মুখোমুখি হয়ে দেশে ফিরবেন বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশে সন্ত্রাস সৃষ্টি করে কোনো লাভ হবে না। কারণ এটি কোনো ফ্যাসিবাদী সরকার নয়, এটি নির্বাচিত সরকার। তাঁর ভাষায়, এটি শেখ হাসিনার মতো ‘আমি আর আমার’ নির্বাচনের সরকার কিংবা ‘মিডনাইট নির্বাচনের’ সরকারও নয়; এটি জনগণের আস্থা ও গণঅভ্যুত্থানের সরকার।
তিনি বলেন, এ কারণেই চক্রান্ত, বাসে আগুন, ট্রেনে আগুন এবং বাড়িঘরে আগুন দিয়ে কুৎসিত পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।
গণতন্ত্র প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, বিরোধী দল সরকারের সমালোচনা করছে, বিভিন্ন কথা বলছে এবং অপপ্রচার চালাচ্ছে। তবে সরকার তাদের বিরুদ্ধে কোনো বাধা সৃষ্টি করেনি। কারণ গণতন্ত্রে সরকারের সমালোচনা ও বিরোধী মতামত প্রকাশের অধিকার রয়েছে।
রিজভী বলেন, ‘এই অধিকার চর্চার সুযোগ শেখ হাসিনা দিয়েছিলেন এবং তারেক রহমান সেই অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছেন।’