
দক্ষিণ ইরানের উপকূলীয় একটি শহরে বিয়ের অনুষ্ঠানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত চারজন নিহত ও ৬৮ জন আহত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধাপরাধের’ অভিযোগ করেছে ইরান। দুই দেশের নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলায় আবারও বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইরানের সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার রাতে হরমোজগান প্রদেশের কুহেস্তাক শহরের একটি বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। এ সময় বাড়িটিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে।
হামলার পর ছড়িয়ে পড়া ধ্বংসাবশেষ ও ক্ষেপণাস্ত্রের টুকরোর আঘাতে অনুষ্ঠানে থাকা বেশ কয়েকজন হতাহত হন। নিহতদের মধ্যে চার বছর বয়সী শিশু আমির-আলি কারিমি এবং ১৬ বছর বয়সী মোহাম্মদ মোল্লাহি রয়েছেন।
কনের বাবা আলি মোল্লাহি মেহর নিউজকে বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত ভয়াবহ। যা ঘটেছে, তা নিয়ে তিনি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন ও বিপর্যস্ত।
প্রাদেশিক সরকারের উপপ্রধান আহমাদ নাফিসি জানান, জরুরি সেবাকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হামলাটিকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এই ‘বর্বর অপরাধের কঠোর জবাব’ দেবে ইরান।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ বলেন, শিশুদের সঙ্গে থাকা পরিবারগুলোও হামলার শিকার হয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে ‘গ্রেট স্যাটান’ বা ‘মহাশয়তান’ বলে আখ্যা দেন।
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গালিবাফ বলেন, কোনো শক্তি যদি শয়তানের মতো আচরণ করে, শয়তানের মতো লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করে এবং শয়তানের মতো হত্যা করে, তাহলে তাকে শয়তানই বলতে হবে। একই ধরনের কর্মকাণ্ড চালানো কোনো জুনিয়র শয়তানকে যে শক্তি আড়াল করে, সেটিই ‘মহাশয়তান’।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের হামলার মধ্য দিয়ে প্রায় এক মাস ধরে চলা দুই দেশের অস্বস্তিকর যুদ্ধবিরতির অবসান ঘটে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনার নতুন চক্র শুরুর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, রাতভর চালানো হামলায় ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার এবং সামুদ্রিক সামরিক স্থাপনাসহ বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে।
এর জবাবে ইরান বাহরাইন, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। ইরানের সামরিক মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইব্রাহিম জোলফাঘারি আরও ‘ভারী, বিস্তৃত, ধ্বংসাত্মক ও বিধ্বংসী’ প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলার পর ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে বাড়িটির ছাদ ধসে পড়া, জানালা ভেঙে যাওয়া এবং চারপাশে ধ্বংসাবশেষ পড়ে থাকতে দেখা যায়। দেয়ালজুড়েও ছররা বা ক্ষেপণাস্ত্রের টুকরোর আঘাতে অসংখ্য গর্ত দেখা গেছে। কাছের একটি হাসপাতালের ভিডিওতে বিয়ের পোশাক পরা নারীদের আহত শিশুদের চিকিৎসার জন্য নিয়ে যেতে দেখা যায়।
সেন্টকমের মুখপাত্র টিম হকিন্স বলেন, বেসামরিক মানুষ হতাহত হওয়ার খবর সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র অবগত। তবে তার দাবি, ‘ইরানিয়ান রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পসের (আইআরজিসি) মতো যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী কখনো বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু বানায় না।’
এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মার্কিন হামলায় অন্তত ১৫৬ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ১২০ জনের বেশি ছিল স্কুলশিক্ষার্থী। স্বাধীন তদন্তে বলা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় ওই হামলা চালিয়েছিল। তবে মার্কিন সরকার জানিয়েছে, ঘটনাটি এখনো তদন্তাধীন।
তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান