
বরিশালের মুলাদীতে জয়ন্তী নদীতে জেলে ও খেয়াযাত্রীদের ওপর বোমা হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি জামাল পালোয়ান ওরফে ‘বোমারু জামাল’কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার ভোরে উপজেলার সফিপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রাম থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বরিশালের মুলাদীতে জয়ন্তী নদীতে জেলে, ট্রলারচালক ও খেয়াযাত্রীদের লক্ষ্য করে বোমা হামলার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত জামাল পালোয়ানকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোর ৬টার দিকে সফিপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার রাত ৮টার দিকে সফিপুর ইউনিয়নের নোমরহাট খেয়াঘাটের উত্তর পাড়ে জয়ন্তী নদীতে ৩২ থেকে ৩৫টি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ট্রলারচালক, জেলে ও খেয়াযাত্রীসহ অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত হন। এ ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এ ঘটনায় আহত জেলে জহিরুল ইসলামের মা মমতাজ বেগম বাদী হয়ে সোমবার সন্ধ্যায় মুলাদী থানায় মামলা করেন। মামলায় জামাল পালোয়ান ও স্বপন পালোয়ানসহ চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে জামাল পালোয়ান নিজের বাড়িতে প্রবেশ করেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালিয়ে সকাল ৬টার দিকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
স্থানীয় জেলেদের অভিযোগ, জামাল পালোয়ানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা আদায়, জেলেদের নির্যাতন এবং মাছ ও জাল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডে সাধারণ জেলেরা দীর্ঘদিন ধরে অতিষ্ঠ ছিলেন বলে দাবি তাঁদের।
মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মো. সোহেল রানা বলেন, জামাল পালোয়ান এলাকায় বোমা তৈরির কারিগর হিসেবে পরিচিত। তিনি ‘বোমারু জামাল’ নামেও পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে আগে থেকেই দস্যুতা ও মাদক আইনে মোট ছয়টি মামলা রয়েছে।
ওসি আরও জানান, গত রোববার রাতের বোমা হামলার ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে পৃথক আরেকটি মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার জামালকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।